Pages

Ads 468x60px

Sample text

Our Partners

Sample Text

  • HEADING-1 GOES HERE

    DESCRIPTION GOES HERE
  • HEADING-2 GOES HERE

    DESCRIPTION ww.GOES HERE

Resources

Bookmarks

বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

দাওয়াতের কাজ ও দুনিয়ার মাল-মাত্তা



হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম কে সাথে নিয়ে দাওয়াতের কাজ এমনভাবে করেছিলেন যেন তাদের আর কোন কাজ ছিল না।
এটাই তাদের একমাত্র কাজ ছিল।আনসারী সাহাবীরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাছে এই শর্তে বাইয়াত হয়েছিলেন যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তারা তাদের জান,মাল সমস্ত কিছু দিয়ে সাহায্য করবেন।
আল্লাহ তায়ালা তাদের মরতবা কে বৃদ্ধি করুন এবং তাদের আখেরাতে উচ্চ মাকাম দান করুন।দ্বীনের কাজের ব্যাপারে তাঁরা ছিলেন খালেস এবং পরিশ্রমী অন্য কোন কিছুই তাদের কাছে দ্বীনের কাজের চেয়ে বড় ছিল না।
মুহাজির সাহাবিরা তাদের ঘরবাড়ি,আত্মীয় স্বজন সব ছেড়ে মদিনায় দ্বীনের মেহনত করতেন। দ্বীন তাদের খাছে অনেক বড় জিনিস ছিল এবং এটাকেই তারা কামিয়াবীর সোপান জানতেন।তাদের এই কোরবানির বদলা তো আল্লাহ তায়ালা নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন।
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামানায় মুসলমানদের মধ্যে তিনটি দল ছিল।মুহাজির,আনসার,মুনাফিক।
মুনাফিক ছিল তারা যারা মুসলমানদের সাথে থাকত,নিজেদের মুসলমান বলে দাবি করত,কিন্তু যখনি কোন কঠিন কাজ উপস্থিত হত তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সরে যেত।
যখন আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় বের হওয়ার ডাক আসত তারা হয় যেতো না,নাহয় পিছনে পিছনে থাকত।কিন্তু গনিমতের মাল নেওয়ার জন্য সবার আগে আসতো।
কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা জিহাদে থাকতেন আগে,কিন্তু দুনিয়ার লোভনীয় বস্তু থেকে তারা থাকতেন দূরে দূরে ।
হুনাইনের যুদ্ধে অনেক নতুন মুসলমান অংশ নিলেন। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে মুসলমানদের সংখ্যা কাফেরদের চেয়েও বেশি হয়ে গেলো। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তো সংখ্যার মোহতাজ নন। এদিকে মুসলমানরা যখন একথা চিন্তা করল যে আজ তো আমরা এমনিতেই জিতব কারন আমরাই বেশি। আল্লাহ তায়ালার নিকট তা পছন্দ হল না।গলদ এক্বিনের কারনে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য আসার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলো। অল্প সময়ের মধ্যে মুসলমানদের অবস্থা শোচনীয় হতে লাগলো। একসময় হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন ময়দান খালি। যারা নতুন মুসলমান ছিল তারা কেউ নেই।
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডাক দিলেন, হে আনসার!
ডান দিক থেকে উত্তর আসল,লাব্বায়েক ইয়া রসুলুল্লাহ!
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার ডাক দিলেন, হে আনসার!
বাম দিক থেকে উত্তর আসলো, লাব্বায়েক ইয়া রসুল্লাল্লাহ
এখন শুধু সাহাবীরাই ময়দানে। কাফেররা দেখল যে ময়দান খালি,অল্প কিছু আছে।তারা ধরেই নিল তাদের জয় হয়্যে গেছে। অল্প সময়ের মধ্যে সাহাবিরা আবার আল্লাহ তায়ালার দিকে মোতাওয়াজ্জু হলেন।তারা বুঝতে পারলেন আজ আল্লাহ তায়ালার সাহায্য ছাড়া যুদ্ধ জয় অসম্ভব। এই সেই এক্বীন যার বুনিয়াদের উপর বদর,উহুদ প্রমুখ যুদ্ধে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য এসেছিল। যার বুনিয়াদের উপর বড় বড় শক্তি মুসলমানদের পদানত হয়েছিল। এই বুনিয়াদ যদি ভেঙ্গে পড়ে তবে দুনিয়ার সব মুসলমান মিলেও আল্লাহ তায়ালার সাহায্য নামাতে পারবে না, এটাই আল্লাহ তায়ালা বুঝিয়ে দিলেন হুনাইনের যুদ্ধে।
অল্প সময়ের মধ্যে বিজয় হয়ে গেল,মুসলমানরা গনিমতের মাল নিয়ে ঘরে ফিরল। কিন্তু অবাক করা বিষয় যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনিমতের মাল যারা নতুন মুসলমান তাদের মধ্যে (যারা জিহাদে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল ) বণ্টন করে দিলেন। কিছু কিছু দুর্বল আনসার সাহাবী এই মন্তব্য করলেন,যুদ্ধের সময় আমরা আর মাল বণ্টনের বেলায় তারা(অগ্রাধিকার)! যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কানে এ কথা গেল,তিনি সব আনসার দেরকে ডাকলেন,আর এ মন্তব্যের বিষয়ের অভিযোগ করলেন। তারপর তাদেরকে এ কথা বললেন(সারমর্ম এই), তোমরা কি এই ব্যাপারে সন্তুষ্ট নও যে সবাই দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরুক আর তোমরা আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূলকে নিয়ে ঘরে ফিরো!
সাহাবায়ে কেরাম অনেক কাঁদলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও কাঁদলেন।
সাহাবায়ে কেরাম আখেরাত নিয়ে ঘরে ফিরলেন। আসলে আমরা যে আমল করি এর উদ্দেশ্য তো দুনিয়া হতে পারে না।
আখেরাতই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদের বুঝ দান করেন। আমরা দাওয়াতের কাজ করি( কতটুকু তা আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন) কিন্তু নিজেকে একটু প্রশ্ন করি, আমি কি এই আদর্শের উপর আদৌ উঠতে পেরেছি?

কোন মন্তব্য নেই:

Search (Don't Edit)

Navigation-Menus (Do Not Edit Here!)