নামাজি পাঁচ ধরনের-
· যারা একেবারেই নামাজ পড়ে না।
· যারা মাঝে মাঝে পড়ে তবে পাঁচ ওয়াক্ত না।
· পাঁচ ওয়াক্ত পরে তবে নামাজে কোন ধ্যান থাকে না।
· নামাজে বার বার ধ্যান ছুটে যায় কিন্তু চেষ্টা করে খুশুর সাথে পড়ার।
· নামায যাদের চক্ষুর শীতলতা, মুহূর্তের জন্যও ধ্যান ছুটে না।
নিজেকে যদি প্রশ্ন করি আমি কোন দলে?
উত্তর যাই হোক সেটা নিজের কাছেই শুনতে ভাল লাগবে
না।
আল্লাহ তায়ালা পাঁচ ধরনের নামাজির সাথে পাঁচ রকম
আচরণ করবেন।
· প্রথম অবস্থা - এদের জন্য শাস্তি অবধারিত(যদি আল্লাহ তায়ালা মাফ করে
দেন তবে এটা তাঁর অসীম অনুগ্রহের কিছু অংশ কেননা আল্লাহ তায়ালা যা ইচ্ছা করতে
পারেন এবং এর জন্য কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না)।
· দ্বিতীয় অবস্থা - নামাজে
অবহেলার কারনে এদের হুকুমও উপরের মত।
· তৃতীয় অবস্থা - এদের ফরজ আদায় হয়ে যাবে কিন্তু নামাজের যে বিশেষ আজর ও
সওয়াব তা থেকে তারা বঞ্চিত হবে।ধ্যান না থাকার কারনে আল্লাহ তায়ালা তাদের নামাজে
ভ্রুক্ষেপও করবেন না।
· চতুর্থ অবস্থা - যদিও এদের ধ্যান ছুটে যায় কিন্তু তাদের চেষ্টার কারনে
আল্লাহ তায়ালা তাদের নামাজ কবুল করবেন।কিন্তু নামাজের সাথে যে আল্লাহ তায়ালার
ওয়াদা তা পুরা হবে না।এই নামাজ দ্বারা নিজের জরুরত আল্লাহ তায়ালার সাহায্য নিয়ে
পুরা করা যাবে না।যেমন সাহাবায়ে কেরাম করেছিলেন।
· পঞ্চম অবস্থা - এই নামাজের দ্বারা
আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা দুনিয়াতেই ফলবে। এটাই হাক্বীকী নামাজ যে নামাজ আল্লাহ তায়ালা বান্দার
কাছে চান।এই নামাজ দ্বারাই সাহাবায়ে কেরাম তাদের দুনিয়াবী সমস্যার
সমাধান করিয়ে নিয়েছিলেন।
আমার এক আত্মীয় তার মেয়েকে ছোটো বেলা থেকে নাচ
গান শিখিয়েছেন। মেয়ে সুন্দর করে গাইবে সবাই তার প্রশংশা করবে এটাই উদ্দেশ্য। তো
সুন্দর গলার স্বর এটাও একটা যোগ্যতা।আর এর জন্য বাবা ছোটো থেকেই তাকে শেভাবে গড়ে
তুলছেন।
খুবই চিন্তা করার বিষয় যে, যোগ্যতা আসার জন্য তার
পিছনে সময় দিতে হয়।
খুশু খুজুর সাথে নামাজ পড়া এটা যে একটা যোগ্যতা
এভাবে কি কেউ ভাবি?
একটা ছোট মেয়ে গান শিখবে তার জন্য যদি তাকে
শিক্ষক রেখে শিখাতে হয় তাহলে নামাজ শিখার জন্য কি করা দরকার।
এই জন্য নিজেকে আসলে ছাত্র ভাবা, যে আমি একজন
ছাত্র এবং আমাকে ঐ নামাজ শিখতে হবে যে নামাজে মুহুর্তের জন্যও ধ্যান ছুটে না।
আল্লাহ তায়ালা আমার কাছে ঐ নামাজই চাচ্ছেন। আর
যদি আমি আমার নামাজ কে সুন্দর করতে পারি তো আমি দুনিয়াতে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য
পাবো আর আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা যে আজর ও সওয়াব রেখেছেন আমিও তার শামিল হব।
বান্দা যখন নামাজে দাঁড়ায় তো আল্লাহ তায়ালা তার
দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দেন।বান্দা যতক্ষন নামাজের প্রতি মনোযোগী থাকে আল্লাহ
তায়ালাও তার প্রতি মনোযোগী থাকেন। বান্দা যখন অবহেলা করে তো আল্লাহ তায়ালাও তার
ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যান।
যদি আমার নামাজের ভিতর বাহির সুন্দর হয়ে যায় তবে
বাহির থেকে কেউ বুঝবেও না যে কত বড় সম্পদ আমার ভিতরে আছে।
তাই নামাজ হচ্ছে নিজের গোপন সম্পদ। এই সম্পদ
হাসিল করার জন্য নিজেকে বিলীন করা চাই।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের কবুল করেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন